প্রচ্ছদ > জাতীয় > আজ আব্দুর রৌফ চৌধুরীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী

আজ আব্দুর রৌফ চৌধুরীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী

দিনাজপুর : মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রৌফ চৌধুরীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী রবিবার।

১৯৩৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌরসভার ধনতলা চৌধুরী পরিবারে জন্ম নেন তিনি। ২০০৭ সালের ২১ অক্টোবর তিনি মারা যান।

আব্দুর রৌফ চৌধুরী ছিলেন বৃহত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। তার একমাত্র ছেলে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী দিনাজপুর-২ আসনে টানা দ্বিতীয়বারের সংসদ সদস্য ও টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

রৌফ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার সকালে মরহুমের কবরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, রৌফ চৌধুরী ফাউন্ডেশনসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এছাড়া দরিদ্রদের মাঝে কাপড় ও খাবার বিতরণ এবং এতিমখানায় দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে। পারিবারিকভাবে এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোরআনখানি, আলোচনা সভা ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া দলীয় অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সকাল ৭টা ৩০মিনিটে দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৮টায় কালো ব্যাচ ধারণ। দলীয় কার্যালয় হতে শোক র‌্যালি সহকারে মরহুমের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও দোয়া মাহফিল।

আব্দুর রৌফ চৌধুরীর বর্ণাঢ্য জীবন:

আব্দুর রৌফ চৌধুরী ১৯৩৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ধনতলা গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম চৌধুরী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১ বছর বয়সেই তার বাবা মারা যান। আট ভাই-বোনের মধ্যে রৌফ চৌধুরী ছিলেন সর্ব কনিষ্ঠ।

রৌফ চৌধুরী ১৯৫২ সালে সিরাজগঞ্জ থেকে মেট্টিকুলেশন পাস করেন। তৎকালীন সময়ে ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে কারাবরণ করেন রৌফ চৌধুরী। পরে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। ঢাকা কলেজে পড়াকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত আস্থাভাজন ছাত্রনেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে আসেন তিনি। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে (বর্তমানে দিনাজপুর সরকারি কলেজ) ভর্তি হন এবং কলেজছাত্র সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।

১৯৬২ সালে পঞ্চগড়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম ইসমাইল হোসেন সরকারের জ্যেষ্ঠা কন্যা রমিজা বেগমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন আব্দুর রৌফ চৌধুরী।

রৌফ চৌধুরী বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়) জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রণীত ৬ দফা আন্দোলন, পরবর্তীতে ছাত্রসমাজের ১১দফাসহ আইয়ুব খানের সামরিক শাসন বিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে সামনের কাতারে ছিলেন রৌফ চৌধুরী।

১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু তাকে নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন তিনি তার শিক্ষা প্রিন্সিপাল এবিএম মোকসেদ আলীর নাম প্রস্তাব করেন এবং বঙ্গবন্ধু তাকেই নমিনেশন দেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পূর্বাঞ্চলীয় জোনে মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ ও কামরুজ্জামানের দূত হিসেবে কাজ করেন রৌফ চৌধুরী। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় তিনি আখচাষী সমবায় ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। কেন্দ্রীয় সমবায় ইউনিয়নে দু’বার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তিনি আত্মগোপনে থেকে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এই সময় তিনি কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের মুক্তাগাছা সম্মেলনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

রৌফ চৌধুরী দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের একনাগারে ১৫ বৎসর সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন এবং একই সঙ্গে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। দিনাজপুরে ৭৫’ পরবর্তী সামরিক শাসন বিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে তার অবদান অসামান্য।

তিনি ১৯৮৮ সালে উপজেলা নির্বাচনে বোচাগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসন থেকে বিপুল ভোটে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০২ সালে জাতীয় শোক দিবসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখায় বিএনপি-জামায়াতের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে অসুস্থাবস্থায় ২০০৭ সালের এ দিনে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তিনি স্ত্রী রমিজা বেগম, একমাত্র পুত্র ও পাঁচ কন্যা রেখে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.