প্রচ্ছদ > ফিচার > ছেলের স্বীকৃতি কবে পাবেন বীরগঞ্জের ছলেমান ?

ছেলের স্বীকৃতি কবে পাবেন বীরগঞ্জের ছলেমান ?

খানসামা বার্তা : জন্ম ১৯৮৮ সালের ১৭ মে। জাতীয় পরিচয় পত্রসহ বিভিন্ন দালিলিক তথ্যে রয়েছে বাবার নাম। চাচারাও স্বীকৃতি দিয়েছেন, জানেন এলাকাবাসীও। কিন্তু আজও বাবা দেয়নি স্বীকৃতি। দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে বাবার স্বীকৃতির জন্য লড়ছেন ছলেমান।

ছলেমানের বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রামে। ওই গ্রামের মৃত পিয়ার আলী ছেলে পল্লী চিকিৎসক রফিকুল ইসলামের কাছে বাবার স্বীকৃতি না পেয়ে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবি সমিতি দিনাজপুর শাখায় অভিযোগ করেছেন ছলেমান। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহিলা আইনজীবি সমিতি গত শনিবার দুপুরে স্থানীয় সিডিএ বাজারে উপস্থিত থাকার জন্য রফিকুল ইসলাম , তাঁর দুই ভাইসহ নিকট আত্মীয়দের উপস্থিত থেকে জবাব দেবার জন্য নোটিশ করে।

সম্প্রতি শতগ্রামের পাশে সিডিএ বাজারে যান বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবি সমিতি দিনাজপুর শাখার প্রধান আইনজীবি তৈয়বা বেগম এবং সদস্য আইনজীবি কহিনুর বেগম। সেখানে ছলেমানের মা ছাহেলা বেগম আইনজীবিদের জানান, তাঁদের পরিবার গরীব। রফিকুলরা অবস্থাসম্পন্ন। সম্পর্ক করে পরিবারকে না জানিয়ে রফিকুল পার্শ্ববর্তী বেলতলী গ্রামের এক মৌলভীর কাছে বিয়ে করেন। পরিবারের বিরোধিতায় স্ত্রীকে বাড়িতে ওঠাননি রফিকুল। সময়মতো ওঠানোর আশ্বাস দিয়ে ছাহেলাকে শ্বশুড় বাড়িতেই রাখেন রফিকুল। এর মধ্যে ছাহেলা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। সন্তান নষ্ট করতে উঠে পড়ে লাগেন রফিকুল। নিজের সন্তানকে বাঁচাতে ময়মনসিংহ এ খালার বাসায় যান ছাহেলা। সেখানেই জন্ম নেয় ছলেমান। এর মাঝে ছাহেলার অনুপস্থিতে রফিকুল স্থানীয় দালালদের দিয়ে তৎকালিন চেয়ারম্যান ছাবদারুল ইসলামের কাছে ছাহেলা কখনও স্ত্রী হিসেবে দাবী করবেনা মর্মে একটি মীমাংসা করেন। সেখানে ছাহেলাকে দেবার কথা বলে রফিকুল দালালদের বিশ হাজার টাকাও দেন।
বেশ কিছুদিন পর ছাহেলা ময়মনসিংহ থেকে এলাকায় ফিরে আসেন। বিয়ে রেজিষ্ট্রি না থাকায় বহু চেষ্টা করেও রফিকুলের কাছে স্ত্রীর স্বীকৃতি পায়নি ছাহেলা। দালালদের কাছে দেওয়া টাকাও পাননি ছাহেলা। দশ বছর পর অন্য ব্যক্তিকে বিয়ে করেন ছাহেলা।

ছলেমান বলেন, ছেলের স্বীকৃতির দাবীতে অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্তু রফিকুল ইসলাম প্রভাবশালী হওয়ায় পেরে ওঠেননি। ছেলের স্বীকৃতির জন্য তিনি রফিকুল ইসলামের সাথে ডিএনএ পরীক্ষার অবেদন জানান।
নোটিশের জবাব দিতে সিডিএ বাজারে এসে দুই আইনজীবির কাছে রফিকুলের দুই ভাই মাজেদুল ইসলাম এবং রহিমুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। রহিমুল ইসলাম জানান, ছাবদারুল চেয়ারম্যানের কাছে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাহেলাকে বিশ হাজার টাকা দিতে রফিকুল সে সময় ২৪ কাঠা জমি বিক্রি করে দালালদের দিয়েছিলো।

প্রতিবেশি আব্দুল কুদ্দুস জানান, ছাহেলার পেটের সন্তান নষ্ট করতে রফিকুল সে সময় কুদ্দুসকে ৩০০ টাকা দিয়েছিলেন।

নোটিশ দেওয়া হলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না রফিকুল ইসলাম।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হল রফিকুল ঘটনাটি সাজানো উল্লেখ করে জানান, ভাইদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধের জন্য ঘটনাটি সাজানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.