প্রচ্ছদ > মতামত > সাম্প্রতিক সময়ের ভাবনা

সাম্প্রতিক সময়ের ভাবনা

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী:

আমাদের প্রাণ প্রিয় সন্তানেরা, তোমরা আমাদের আগামীর ভবিষ্যত । তোমাদের কঁচি মনের আকুতি আমাদের মমতাময়ী মা আমাদের একমাত্র আশা ভরসারস্থল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুব কাছ থেকে শুনেছেন ও দেখেছেন । তিনি তোমাদের সব দাবিই মেনে নিয়েছেন কারণ তিনি তোমাদের বিশ্বাস করেন, ভালোবাসেন । তোমরা জানো এই অগাস্ট মাস শোকের মাস । আমরা হারিয়েছি আমাদের অমূল্য সম্পদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে । আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যিনি আমাদের দেশকে নিজের হাত ধরে উন্নত একটি দেশে পরিণত করার জন্য রাত দিন অক্লান্ত প্ররিশ্রম করে চলেছেন । তিনি তো এই মাসে সব হারিয়েছেন । একজন নিষ্পাপ শিশু রাসেল, যদি তোমরা একটিবার তাঁর ছবির দিকে তাকাও, খুব মায়াবী মুখ একদম তোমাদের মুখগুলোর মতো, কষ্টে বুকটা কেঁদে উঠবে । তাঁকে গুলি করে মেরেছে খারাপ মানুষেরা । শেখ রাসেল আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদরের ছোট ভাই । এই মাসে আমাদের মমতাময়ী মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাবা, মা, ভাই, ভাবী সহ পরিবারের সবাইকে হারিয়েছেন । ঐ যে বললাম খারাপ মানুষদের কথা তারা গুলি করে তাঁদের মেরে ফেলেছে । আমরা আজ যে বাংলাদেশে মাথা উঁচু করে বেঁচে আছি, সেই দেশটি আমাদের দিয়েছেন আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । আগে আমরা কি ছিলাম জানো । আগে আমাদের পাকিস্তানের কথা মতো উঠতে বসতে হতো । আমরা কথা বলতে পারতাম না । আমরা বড়ো বিজ্ঞানী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, চাকুরীজীবি, বড়ো শিক্ষক কিছুই হতে পারতাম না । তারা আমাদের দেশের সম্পদ তাদের ওখানে নিয়ে যেত । কথায় কথায় আমাদের মেরে ফেলতো । আমাদের ওরা মানুষই ভাবতোনা । ভাবতো ওদের দাস (কেনা চাকর ) । আরও কত কি অত্যাচার । ওদের কাছ থেকে আমাদের স্বাধীন দেশ দিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । কিন্তু ওরা ওদের কিছু লোক আমাদের দেশে রেখে দিলো, যারা খুব খারাপ ঠিক ওদের মতো । ঐ খারাপ মানুষগুলো আগের কথাগুলো আমাদের জানতে দেয়নি । তারা বাংলাদেশ, তোমার আমার দেশ অনেক বড়ো হোক, উন্নত হোক এটা চায়নি । এই মাসের ১৫ তারিখ তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তাঁর পরিবারের সকলকে মেরে ফেললো । আমরা হারালাম জাতির পিতাকে । আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা চিন্তা করো তো উনি সব হারালেন । কেন তিনি সব হারালেন । আমাদের জন্য, দেশের জন্য । উনার জন্য এই মাসটা, প্রতিটা সময় কত কষ্টের, কত কান্নার, কত আবেগের বুঝতেই পারো । আমাদের প্রাণ প্রিয় সন্তানেরা, যে খারাপ লোকগুলো আমাদের বাংলাদেশ চায়নি, যারা আমাদের জাতির পিতাকে হত্যা করেছে তারা কিন্তু এখনো আমাদের দেশে থেকে গেছে । তাদের সাথে বিদেশের খারাপ মানুষগুলোও আছে । তোমরা রাজনীতি বুঝবেনা বড়ো হও তখন জানতে পারবে । এজন্য খারাপ মানুষদের কথা বলছি ও তাদেরকে তোমাদের কাছে চিনিয়ে দিচ্ছি । তোমাদের সব কথা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়েছেন । তোমাদের আবেগকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে । কিন্তু আমাদের একটাই ভয়, ঐ খারাপ মানুষগুলো তোমাদের মধ্যে ঢুকে গিয়ে তোমাদের কোনো ক্ষতি করে কিনা । ওরা সব সময় খারাপ কিছু করার জন্য বসে আছে । কিভাবে একটা ভালো জিনিসকে খারাপ করে মানুষকে মেরে ফেলা যায় সব সময় এই চিন্তা করছে । তোমরা ইবলিশ শয়তান আর রাবনের নাম শুনেছ হয়তো । ওরা ঠিক ওদের মতো, খুব খারাপ মানুষ ওরা, খারাপের খারাপ । আমাদের দেশ যখন এগিয়ে চলেছে, যখন আমরা আবার আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেশের দায়িত্ব দিতে চাই তখন তারা অনেক খারাপ কিছু করার বিষয় নিয়ে ভাবছে । প্রথমে মনে হতে পারে ভালো কিন্তু শেষে দেখবে খুব খারাপ কিছু ঘটে গেছে । এটাই খারাপ মানুষগুলোর চালাকি । আমাদের প্রাণের চেয়েও প্রিয় সন্তানেরা, তোমাদের জীবন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অমূল্য সম্পদের মতো, তিনি তোমাদের ভালোবাসেন, তোমাদের আগামীদিনগুলো কিভাবে আরও বেশি ভালো করা যায় তা নিয়ে কাজ করে চলেছেন । তোমরা জানো আমাদের পাশের দেশ মায়ানমার বা বার্মা থেকে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিলো । মা ও শিশুদের মেরে ফেলা হচ্ছিলো, তখন পৃথিবীর কোনো দেশ তাদের আশ্রয় দেয়নি । আমাদের মমতাময়ী মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তোমাদের মতো শিশুদের কথা ভেবে, তাদের মায়েদের কথা ভেবে আমাদের দেশে তাদের থাকতে দিয়েছেন । বুঝতে পারো কত বড়ো মন উনার, কত বেশি মানুষকে ভালোবাসেন উনি । তিনি তোমাদের সব কিছুই মেনে নিয়েছেন । তিনি যেটা বলেন সেটাই করেন । এখন তোমরা আর রাস্তায় থেকোনা । বাড়িতে ফিরে যাও, আগের মতো মন দিয়ে পড়াশুনা শুরু করো । খারাপ মানুষরা তোমাদের ভুল বুঝিয়ে খারাপ পথে আনতে চাইবে । সেটা হতে দেওয়া যাবেনা । তোমাদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ । এর থেকে আর কিছু নয় । এই খারাপ মানুষগুলো ফেসবুকে ও অন্যান্য মাধ্যমে নিজেদের বানানো ছবি দিচ্ছে, গুজব ছড়াচ্ছে, মিথ্যে কথা বলছে । তোমরা এগুলো যাচাই ও বোঝার চেষ্টা করবে । তোমাদের প্রযুক্তির জ্ঞান যাতে ওদের খারাপ উদ্দেশ্যের কাছে হেরে না যায় । আশা করি ও বিশ্বাস করি তোমাদের মতো মায়াবী ও মেধাবী মুখগুলো আমার সহজ সরল কথাগুলো বুঝবে । এই আত্মবিশ্বাস আমাদের সন্তানদের প্রতি আমাদের আছে । সবাই ভালো থেকো, ভালো মানুষ হও, বড়ো হও আর দেশের জন্য ভালো চিন্তা করো । তোমরা এখন ঘরে ফিরে গেছো । এজন্য তোমাদের অভিনন্দন । তোমরা ঘরে ফেরে গেছো বলেই আমরা খারাপ মানুষদের চিহ্নিত করতে পেরেছি । আমাদের দেশ এখন দুষ্ট চক্রের হাত থেকে সুরক্ষিত । তবে তারা বসে থাকবেনা । এই বিষয়গুলি ভেবে তোমরা নিজেদের বুদ্ধি বিবেচনা দিয়ে দেশকে ও নিজের জীবনকে এগিয়ে নিবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা ।

আমরা অনেক বিষয় নিয়ে ভাবি । কিন্তু আমরা প্রত্যেকে যে একজন বিজ্ঞানী হয়ে উঠতে পারি সেটি কি আমরা কখনো ভাবি । হয়তো ভাবি অথবা না । অনেকে বলে বিজ্ঞান চর্চায় অনেক অর্থের প্রয়োজন । কথাটা খুব সত্য বলে মেনে নিতে পারছিনা । অর্থের নয় একটা পরিষ্কার উদ্ভাবনী মন হলেই চলে । খুব মেধারও দরকার নেই । কারণ সব বিখ্যাত বিজ্ঞানীরা বোকাসকা ছিল এটা এখন আমরা জানি । আমরা যতনা একটা সমস্যা নিয়ে চিৎকার, মিটিং, মিছিল, সহিংসতা করি ও অন্যদের প্ররোচনায় পড়ে নিজেকে পিছনে ফেলি , সময় নষ্ট করি কিন্তু সেই সমস্যাটি কিভাবে সমাধান হবে তা নিয়ে ভাবিনা । এটাই আমাদের সমস্যা । যেটাকে মানসিক অস্থিরতা বলা হয় । পৃথিবী যতদিন আছে সমস্যা ততদিন থাকবে । সেটা কিভাবে সমাধান করা যায় সেটা বলতে পারা, বাস্তবে করে দেখানো এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ । গুজবের ডালপালা থাকেনা । বাইরের দেশে এটা নিয়ে গবেষণা করে মানুষরা আর আমরা গুজব ছড়াই, গুজবে কান দেই আর বোকার মতো বিশ্বাস করি । অযথায় আমাদের জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করি । আবেগ থাকা ভালো তবে অতিরিক্ত কিছু ভালো নয় । যুক্তি দিয়ে মানুষ হতে হয় আর আবেগ যাতে কখনো যুক্তিকে অতিক্রম করতে না পারে সেটাও আমাদের ভাবতে হবে । আমরা সামনে এগুছি । আমাদের আলাদিনের চেরাগ নেই । একদিন বা একরাতেই সবকিছু বদলে যাবে এটাও ভাবা ঠিক নয় । এজন্য সময়, ভাবনা, পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন দরকার । সেই ভাবনায় ইতিবাচকভাবে আপনি, আমি সবাই যুক্ত হতে পারি । আমি এই দেশের নাগরিক । আমার নিজের যে দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা আছে সেটা আমরা কখনো ভাবিনা । সব অন্যের উপর ছেড়ে দিয়ে বড়ো বড়ো বুলি আওড়ানো ও বুদ্ধিজীবীর মতো কথা বলা আমাদের স্বভাব । আমাদের কারণেই এখন ছোটরাও বিগড়ে গেছে । একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবুন তো কোনো সচেতন বাবা মা তার সন্তানকে অনিশ্চিত একটা পথে ঠেলে দিতে পারে । কখনোই পারেনা । কিন্তু আমাদের দেশে সেটাই ঘটছে । এর কারণ হচ্ছে আমাদের দায়িত্বহীনতা ও নিজের প্রতি অতি আত্মবিশ্বাস । ছোটরা ফুলের মতো সুন্দর ও উদার হবে । তাদের চিন্তা শক্তি আমাদের বুড়োদের ছাড়িয়ে যাবে । এটাই তো স্বাভাবিক হবার কথা ছিল । কিন্তু সেটা হচ্ছেনা আমাদের কারণেই । অদ্ভুত বিষয়, আমাদের সন্তানের উপর আমাদেরনিয়ন্ত্রণ নেই । তাদের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে অন্য কোনো শক্তি । যার খবর হয়তো আমাদের জানা নেই কিংবা আছে । বিজ্ঞানী হবার কথা বলছিলাম । উদ্ভিত দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ইলেকট্রিসিটি ছাড়াই করা যায় এটার খবর কি আমাদের শিশুদের আমরা জানিয়েছি । পাথরকুচি পাতা দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইট, ফ্যান, টেলিভিশন, কম্পিউটার সব চালানো যায় । কেবল পাথরকুচি পাতা দিয়ে নয় অনেক গাছের পাতা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় । আমরা তো কখনো আমাদের শিশুদের বলিনা “বাবার খুঁজে দেখতো কোন কারণে এই গাছগুলির পাতা থেকে বাতি জ্বলে আর কোন কোন ধরণের গাছের এই ধরণের গুন্ আছে ।” সারাবিশ্বের শিশুরা এই কাজগুলি করছে আর আমরা শিশুদের কোমল মন আর নরম হাত গুলো কিভাবে কঠিন আর গরম করা যায় তা নিয়ে ভাবতেই যেন বেশি ব্যস্ত । নিরাপদ সড়কের কথা বলে আমরা শিশুদের রাস্তায় নামিয়েছি । নিরাপদ সড়ক বলে কি কোনো বিষয় আছে নাকি এটা হবে নিরাপদ পরিবহন বা যোগাযোগ ব্যবস্থা । আমরা কি কখনো বলি নিরাপদ মানুষ নাকি বলি নিরাপদ পরিবার বা সমাজ ব্যবস্থাপনা । যখন ব্যবস্থা বা ব্যবস্থাপনার কথা আসে তখন এক বা দুইদিনে এর সমস্যার সমাধান হয়না । ধীরে ধীরে পরিকল্পনা, ভাবনা, উন্নত চিন্তা আর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এটা ঘটে । সেটা আমরা জেনেও শিশুদের কাছে বলতে পারেনি বা নিজের স্বার্থের জন্য জানায়নি । এটা কি আমরা ভালো করেছি । কখনোই না । শিশুদের আবেগ আছে কিন্তু বাস্তবতা তারা জানেনা । তাদের আবেগকে আমাদের সন্মান দিতে হবে কিন্তু বাস্তবতা জায়গাটাও আমাদের বলে দিতে হবে । সময়ের সাথে একদিন ওদের আবেগ নিয়ন্ত্রিত হবে আর অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক । আমরা তাদের বলতে পারতাম, কিভাবে নিরাপদ পরিবহন বা যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় এটা নিয়ে তোমরা সাতদিন ভাবো আর তোমাদের ভাবনাগুলো তোমাদের স্কুলে এসে অনুষ্ঠান করে শেয়ার করো । কোনো শিশু এটা চিন্তা করতে গিয়ে একটা সুন্দর আইডিয়া নিয়ে আসতে পারতো । সমাজ, মানুষ আর দেশ উপকৃত হতো । এগুলো আমাদের ভাবার সময় নেই, বাবা মা, সমাজ সবাই ছুটছে অর্থের পিছে । কিন্তু অর্থকে ধরা কি এতোই সহজ । শিশুদের বাবা মার্ যে সময় দেওয়া দরকার তা হচ্ছেনা । কার সাথে মিশছে, কি অখাদ্য, কুখাদ্য খাচ্ছে , প্রযুক্তির কিভাবে অপব্যবহার করছে তা নিয়ে আমাদের ভাববার সময় কোথায় । আমরা যে মহা ব্যস্ত । কিন্তু আড্ডা , হালকা আলাপ আলোচনা, অন্যের সম্পর্কে দুর্নাম বদনাম, ঈর্ষা ছড়াতে আমরা সবাই ওস্তাদ । পৃথিবীর একন¤॥^র দুর্নীতিমুক্ত দেশটি একসময় দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছিলো । ইংরেজদের মতো জাদরেল লোকেরাও সেখানে দুর্নীতির কারণে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারেনি । কিন্তু বিষয়টি নিয়ে দেশটির সবাই ভেবেছে । দুর্নীতিকে বা দুর্নীতিবাজকে না ধরে ধীরে ধীরে মানুষ, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে এমন একটা কাঠামোয় প্রায় ১৫- ২০ বছরের মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে যেখানে দুর্নীতিবাজ হওয়া বা দুর্নীতি করার সুযোগ নেই । আমরা কিন্তু সেভাবে ভাবছিনা । সময়ের সাথে নাকি মানুষের চিন্তা ও উদারতা বাড়ে কিন্তু আমাদের ঘটছে উল্টোটা । চিন্তা শক্তি নানান কুসংস্কারের মধ্যে আটকে পড়ে সামনে না এগিয়ে পিছু হটছে । সব দায় যেন সরকারের, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের যে দায় রয়েছে সেটা আমাদের ভাববার মতো সময় কোথায় । কেমন যেন একটা হীনমন্যতা আমাদের মধ্যে কাজ করছে । স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলেও দোষ সরকারের । সন্তানরা বখে গেলেও দোষ সরকারের । ঘুষ খেতে না পারলে দোষ সরকারের । রাস্তার আইন ভঙ্গ করলেও দোষ সরকারের । ফুটওভার ব্রিজের উপর দিয়ে গেলে সময় নষ্ট, যান চলাচলের মধ্যেই রাস্তা পার হতেই হবে সেটা যাই ঘটুক না কেন- এটাই নাকি স্মার্টনেস । সরকার কি ড্রাইভারদের লাইসেন্স দেয় নাকি আপনার আমার বাবা, ভাই , বোন যারা ওখানে চাকুরী করছে তারা দেয় । সরকার কি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায় নাকি আমরাই পড়াই । পরীক্ষা কি সরকার পিছায় নাকি আমরাই পিছাই । এধরণের সবকিছু ভাবুন তো একবার । হয়তো বলবেন সরকারকে আড়াল করতে চাচ্ছি সেটা নয় । বরং অন্যের ঘাড়ে দোষ না দিয়ে নিজের ভিতরটাতে তাকান আগে উত্তরটা পেয়ে যাবেন । আমি কারো দালালি করার জন্য বসিনি । সরকারের ভালো মন্দ থাকবে । পৃথিবীর সব জায়গায় আছে । কিন্তু আমার ভালো মন্দটা আমি দেখতে পাচ্ছিনা এটাই আমাদের মূল; সমস্যা । আমি যাই করি সেটাই ভালো । আমি ভালো বা মন্দে সফল হলে আমার সফলতা আর ব্যর্থ হলে সরকারের ব্যর্থতা ।কারণ এখন আমাদের কাছে ব্যক্তি স্বার্থ ও গোষ্ঠী স্বার্থ বড়ো দেশের স্বার্থ নয় । এটা সবার জন্যই প্রযোজ্য । আমরা স্বাধীন দেশে বাস করছি । উন্নত হবার চেষ্টা করছি । এটা আমার দেশ । আমার দেশকে আমাকেই ভালোবাসতে হবে আর সুস্থ চিন্তা করতে হবে । এজন্য দরকার দেশপ্রেম আর বিশ্বাস ।

লেখক: অধ্যাপক, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.