প্রচ্ছদ > সাহিত্য ও সংস্কৃতি > বিনম্র আকুলতা- বাসব রায়

বিনম্র আকুলতা- বাসব রায়

বিদ্রোহ- প্রেম- ভালবাসার মূর্ত প্রতীক আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ।দরিদ্র ঘরে জন্মগ্রহণ করেও স্বীয় মেধা ও মননশীলতার কারণে বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য স্থানে পৌঁছে দিয়েছেন।

এ উপমহাদেশ যখন বিদেশী শাষণ শোষণে জর্জরিত , স্বাধীনতার স্বাদ থেকে বঞ্চিত ও নিগৃহীত তখন বিদ্রোহী কবির লেখনীতে ক্ষুরধার বৈপ্লবিক এক বলিষ্ঠ চেতনার উন্মেষ ঘটে –
” বলবীর , বলো চির উন্নত মম শীর ”।
দেহ মনকে উজ্জীবিত করবার এমন শক্তিশালী কণ্ঠস্বর কেবল নজরুলের ক্ষেত্রেই মানায় । পরবর্তীতে আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর গান কবিতা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভীষণ ভাবে অনুপ্রাণিত করে –

”কারার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙ্গে ফেল কররে লোপাট ”
” দূর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্থর পারাবার হে ‘
” শিকল পরা ছল মোদের এই শিকল পরা ছল ”…..

ইত্যাদি গান ও কবিতার সরব জীবন্ত অনুভূতি বীর বাঙ্গালীকে দেশাত্মবোধে চরমভাবে উজ্জীবিত করে এবং এ কথা নিঃসন্দেহে অনস্বীকার্য যে পরাধীনতার অভিশাপ থেকে মাতৃভূমিকে রক্ষায় কলজয়ী এসব লেখনী অপরিসীম অবদান রাখে । তাই তো, আমাদের চির প্রেরণার কবি কাজী নজরুলের কাছে আমাদের অশেষ ঋণ।

শিশুতোষ ছড়ায় কবির অনবদ্য লেখনী —

” বাবুদের তালপুকুরে
হাবুদের ডালকুকুরে
সে কী বাস করলো তারা ”…

ধর্মীয় গজল ও ভজন নজরুলের লেখনীতে সম্পর্ণ নতুন মাত্রা পায় –

” রমজানের ঐ রোজার শেষে
এলো খুশীর ঈদ ”
” মসজিদেরই পশে আমায়
কবর দিও ভাই ” প্রভৃতি

” ব্রজগোপী খেলে হোরি
হোরি রে ”

” সখী সে হরি কেমন বল ”
”ওরে নীল যমুনার জল
বলরে মোরে বল….”
এসব গানের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে কবি নজরুল করেছেন সমৃদ্ধ ।

মানবতার কবি নজরুল , সাম্যের কবি নজরুল , অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি নজরুল বলেছেন

” গাহি সাম্যের গান
মানুষের চেয়ে নাই কিছু বড়
নহে কিছু মহীয়ান ”

নারী- পুরুষের বৈষম্যের ঘোরতর বিরোধী কবি লিখেছেন-

” জগতে যা কিছু মহান সৃষ্টি ,চির কল্যানকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর ”……

” অসতী মাতার পুত্র যদি জারজ সন্তান হয় ,
অসৎ পিতার পুত্রও তবে জারজ সুনিশ্চয় ”

সকল ধর্ম ও মত সম্পর্কে কবির ছিল অগাধ পান্ডিত্য । বিভিন্ন ভাষায় তাঁর অসাধরণ দক্ষতা যা বাংলা সাহিত্যে অন্য কবি বা লেখকদের মধ্যে খুব একটা দেখা যায় না ।

বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে বিদ্গ্ধ কবি নজরুলের সরব ও সাবলীল উপস্থিতি নেই । আমাদেরকে সাহিত্যের যে সম্ভার তিনি দান করে গেছেন তার তুলনা নেই । কবি নজরুলকে নিয়ে কিছু লেখা আমার ক্ষেত্রে এক চরম ধৃষ্টতা তাই পাঠক কূলের কাছে বিনীত ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আর এত স্বল্প পরিসরে কবিকে নিয়ে লেখা যায় না কারণ তাঁর পরিধি , তাঁর বিস্তৃতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান আমার নেই ।

নজরুলকে জানতে হবে , নজরুল সম্পর্কে শিখতে হবে , তাঁকে নিয়মিত গভীর অনুশীলনের মাধ্যমে অনুধাবন করতে হবে । আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে চির আধুনিক কবি নজরুলের চেতনাকে ….. এ আমার বিনম্র আকুলতা ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published.