প্রচ্ছদ > সারাদেশ > রংপুর মেডিক্যাল হিমঘরে এক বছর ধরে পড়ে আছে ৬ লাশ

রংপুর মেডিক্যাল হিমঘরে এক বছর ধরে পড়ে আছে ৬ লাশ

নজরুল মৃধা, রংপুর : হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের উদাসীনতায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে বেওয়ারিশ হিসেবে পড়ে আছে ৬টি লাশ। এসব লাশের সদগতি কবে হবে কেউ বলতে পারছে না।

আর বেওয়ারিশ লাশ দাফনের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের মুখ্য ভূমিকা থাকলেও তারাও রয়েছে নীরব। এসব জটিলতায় লাশের শেষকৃত হচ্ছে না। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এসব মানুষের পরিচয় উদঘাটনেরও কোনো চেষ্টা করা হচ্ছে না।

রমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছর ধরে রমেক হাসপাতালের হিমঘরে দুই নারী এবং চার পুরুষের লাশ পড়ে আছে। তাদের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছর। সবগুলো লাশ বেওয়ারিশ। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালেই তারা মৃত্যুবরণ করেন। দাবিদার না থাকায় লাশগুলোর ঠাঁই হয়েছে হিমঘরে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতাল কিংবা রাস্তাঘাটে বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া গেলে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম উদ্যোগী হয়ে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় সেগুলো দাফনের ব্যবস্থা করে। কিন্তু রংপুরে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের কার্যক্রম নেই। তবে রংপুরে পুলিশের সহযোগিতায় সিটি করপোরেশন বেওয়ারিশ লাশের দাফনের ব্যবস্থা করে। কিন্তু সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঠিক সমন্বয় না থাকায় লাশগুলো দাফন করা সম্ভব হচ্ছে না। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এসব লাশের শেষ ঠিকানা কোথায় হবে এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়েছে। পরিচয় উদঘাটনের চেষ্টা করা হলে স্বজনরা হয়তো লাশের মুখ দেখতে পেতেন। তারাই লাশ নিয়ে সৎকারের ব্যবস্থা করতেন। কিন্তু লাশের পরিচয় উদঘাটন কিংবা লাশের শেষকৃত কোনোটাই হচ্ছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদাসীনতায়।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক জানান, এসব লাশের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি খোঁজ নিয়ে দ্রুত এসব লাশ দাফনের ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

রমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় রায় জানান, বিষয়টি আমরা পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। আইনগত জটিলতার কারণে এসব লাশ দাফনের বিষয়টি আটকে আছে।

রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার হোসেন আজাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

রংপুর আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি আবদুল জলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেওয়ারিশ লাশ এত দিন রাখার নিয়ম নেই। সংশ্লিষ্ট থানায় ইউডি মামলা করে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম অথবা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে দাফন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *