প্রচ্ছদ > কৃষি > লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ

লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ

খানসামা বার্তা : মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে লিচুর বাগান। বাগানগুলোয় এখন মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ।

আর এই মৌ গন্ধে মৌমাছিরা এগাছ থেকে ওগাছে উড়ে সংগ্রহ করছে মধু। সুস্বাদু, মিষ্টি ও লোভনীয় এ মধু মৌমাছির মাধ্যমে আহরণ করছেন মৌ-চাষীরা। এতে বাগানী ও মৌ-চাষী উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।

লিচু বাগানে মৌমাছির বাক্স বসিয়ে মধু আহরন করছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ৩ জন মৌচাষী। এসব ভ্রাম্যমাণ মৌ-চাষিরা লিচুগাছের তলায় বাক্স বসিয়ে মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ করছেন। মৌচাষীরা মধু সংগ্রহ করে লাভবান অন্যদিকে মৌমাছির মাধ্যমে মুকুলের পরাগায়ন ঘটায় লিচুর বাম্পার ফলনের আশা বাগানীদের। আবার এ মধু যেমন খাঁটি, তেমনি সুস্বাদু। মানের দিক থেকেও উন্নত হওয়ায়, তাই এর চাহিদাও বেশী।

গত শুক্রবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন লিচুর বাগান ঘুরে দেখা যায় বেশ কয়েকটি লিচু বাগানে সু-সজ্জিত ভাবে রাখা হয়েছে মৌবাক্স। তার পাশেই মৌ-চাষীদের থাকার জন্য রয়েছে ছোট্ট ছোট্ট তাঁবুঘর।

খানসামার ভাবকি ইউপির কাচিনীয়া এনায়েতুল্লাহ হাজী পাড়ায় মোস্তফা কামাল মহিরের ৩টি লিচু বাগান রয়েছে। নারায়নগঞ্জ সোনারগাঁও থেকে আসা বিসিক প্রশিক্ষক দ্বারা পরিচালিত আদর্শ মধু চাষ প্রকল্পের ভাই ভাই মৌ খামার ও সোনারগাঁও মৌ খামার ছোট-বড় প্রায় ২০০ মৌ-বাক্স বসিয়ে মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন।

ভাই ভাই মৌ খামারের মৌচাষী মোঃ বজলুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে (বিসিক) মৌমাছি প্রকল্পের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে মৌচাষ শুরু করেন। প্রতি মৌসুমে বিভিন্ন জেলা থেকে মধু সংগ্রহ করছেন। খানসামা উপজেলার কাচিনীয়ার বাগান গুলোতে প্রায় ৬/৭ বছর হতে এসে মধু সংগ্রহ করি। এবার ৩টি লিচু বাগানে মৌমাছির বাক্স রয়েছে ২০০টি। এখানে ৬/৭দিনের মধ্যে বাক্সগুলো থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। এই গত সপ্তাহে ২০ মণেরও বেশি মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। পরবর্তীতে মুকুলের উপর নির্ভর করবে মধুর পরিমাণ।

সোনারগাঁও মৌ খামারের মৌচাষী মোঃ মজিবুর রহমান জানান, লিচুর ফুল যতদিন থাকবে মধু সংগ্রহ ততদিন অব্যাহত থাকবে। তবে এ বছর চলতি মৌসুমে এ বাগান থেকে ১০০ মণেরও বেশি মধু সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রতিমণ মধু ৭/৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ সময় বিসিকের সাহায্যে আমরা মধু বোতল জাত করে বিক্রি করায় আমাদের লাভ তুলনামুলক ভাবে বেশি হয়।

বাগান মালিক মোস্তফা কামাল মহির জানান, বাগানে মৌমাছি যতবেশি আসবে, তত পরাগায়ন ঘটবে। এতে লিচুর ফলনও বেশি হবে। এর জন্য লিচু গাছে ফুল আসার সাথে সাথে নিজেই মৌ-চাষীদের ডেকে আনেন বলে জানান তিনি।

ভাবকি ইউপির চেয়ারম্যান মোঃ সফিকুল ইসলাম জানান , প্রতি লিচু মৌসুমে আমি এখান থেকে পরিবারের জন্য মধু কিনে নিয়ে যাই। এখানের মধু বাজারের তুলনায় অনেক ভাল ও সুস্বাদু।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আফজাল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২১০ হেক্টর জমিতে ১৬০ টি লিচু বাগান রয়েছে। বোম্বাই, চায়না থ্রি, কাঠালী, মাদ্রাজীসহ নানাজাতের লিচুর চাষ হয়েছে। মৌ-চাষীদের মৌমাছি দ্বারা মধু সংগ্রহের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে পরাগায়ন ঘটলে ২০/৩০ভাগ লিচুর ফলন বেশি পাওয়া যাবে। এতে কৃষক ও মৌ-চাষি উভয়ই লাভবান হবে। এছাড়াও তিনি মাঝেমধ্যে লিচু বাগান পরিদর্শন গিয়ে চাষীদের বাগান পরিচর্যার পরামর্শ প্রদান সহ মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগে সাবধান করেন লিচু চাষীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.